Wednesday, May 22, 2019
সংঘর্ষহীন বানান..
প্রমিত বানানের নিয়ম মনে রাখতে হলে ব্যাকরণ জানতে হয় অথচ স্কুলে পড়ার সময় ব্যাকরণ পড়াকে অকারণ মনে হয়েছিল। এখন হয়েছে বিপদ। কোনটা তৎসম, কোনটা অতৎসম আর কোনটা দেশী বা বিদেশী শব্দ মনে থাকে না। আমি ছোটবেলা থেকে পাখী, দাদী, শাড়ী, বাড়ী, নদী, আরবী, জাপানী - ইত্যাদি লিখে অভ্যস্ত। এখন বলা হচ্ছে অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি ( এখানে ঈ- কার নয়) বা মিশ্র শব্দে ঈ- কার নয়, ই- কার দিতে হবে। এখন তাই প্রমিত বানানে শহিদ, দাদি, রানি, পাখি, শাড়ি, জার্মানি, চিন - ইত্যাদি লিখতে হবে। আবার নদী সংস্কৃত থেকে আগত তাই নদি নয়। এ এক ঝকমারি বটে। আমার কথা - প্রমিত বানানরীতি মানতে পারলে ভালো, এতে বৈষম্য, অসামঞ্জস্য দূর হবে। কিন্তু একই সঙ্গে কিছু বানানের ওপর এমন মোহাব্বত হয়ে গেছে যে বাদ দিতে মন চায় না, সেই রকমই শহীদ, রাণী, চীন - এই রকম কয়েকটি শব্দ। এই প্রসঙ্গে একটা ঘটনা বলি। আমাদের এক আত্মীয় তার আপন মামার মেয়েকে বিয়ের পর এখনও শ্বশুরকে মামা ডাকে। তাকে একদিন বললাম - কি রে, বিয়ের পর সবাই শ্বশুরকে আব্বা ডাকে, তুই এখনও মামা বলে যাচ্ছিস -- ব্যাপার কী ? সে বললো - ভাইজান, যে মানুষটাকে জ্ঞানবুদ্ধি হওয়ার পর থেকে মামা ডেকেছি, এতকাল বাদে তার মেয়েকে বিয়ে করেছি বলে পুরনো সম্পর্কটা ভুলে যাবো ?
আমারও অবস্থা তাই। বাংলা একাডেমি নিয়ম করেছে ভালো কথা, যারা মানছে মানুক, আমি না হয় একটু ব্যতিক্রমই থাকলাম। আর আমার লেখা তো নিতান্তই ফেসবুকে, কোনো পাঠ্যবই, দলিল- দস্তাবেজ বা নথিপত্রে নয়, সুতরাং এই " ভুল " নিয়ে কারো দুশ্চিন্তারও কারণ নেই।
